Sunday, June 5, 2016

স্মৃতির বেগম প্রীতির বেগম - মোমিন মেহেদী :: দৈনিক জনতা ::

:: দৈনিক জনতা ::

স্মৃতির বেগম প্রীতির বেগম
মোমিন মেহেদী
'বেগম' দিয়ে এগিয়েছিলেন নিজের সাহস নিয়ে

সেই সাহসে সঙ্গী ছিল সবাই মনন দিয়ে

রাজনীতিরও বড় নীতি নিয়ে ছিলেন বেশ

কাজের মাঝে গড়ে ওঠে সোনার বাংলাদেশ

লেখায় রেখায় অনন্যতায় 'বেগম' গড়ে নারী

দোয়া করুন সবাই যেন ঐক্য থাকতে পারি

গড়তে স্বদেশ সবাই যেন নিবেদিত থাকি

তার-ই পথে তৈরি হয়ে মননপথে ডাকি...

ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা 'বেগম'। ভারত, পূর্ব পাকিস্তান পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়ির অন্দর মহলে বেগম পত্রিকার কদর ছিল খুব বেশি। বেগম এর জন্মলগ্ন থেকে এর সম্পাদনায় যুক্ত ছিলেন নূরজাহান বেগম। বাবা 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের হাত ধরে সংবাদপত্র জগতে তার আবির্ভাব। তিনি ছয় দশক ধরে বেগম পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। তিনি শুধু একজন সাংবাদিকই নন লেখক গড়ার কারিগরও। তার হাত ধরে গড়ে উঠেছেন নিবেদিত সাহিত্যজন কথাশিল্পী রাবেয়া খাতুন, সেলিনা হোসেন, রিজিয়া রহমান, ঝর্ণাদাস পুরকায়স্থ, আনোয়ারা সৈয়দা হক, দিলারা মেজবাহ, সেলিনা খালেক, শাহনাজ মুন্নী, কাজী রোজী, হালিমা খাতুন, নাসরীন চৌধুরী, দিলরুবা জেসমিন, নাদিরা খান, শান্তা ফারজানা, ঝর্ণা মনি, রীতা ভৌমিক, হোসনে আরা বেগম, জেবুন নেসা হেলেন, সুলতানা রিজিয়া, রিফাত নিগার শাপলা, শেলী সেন গুপ্তা, লিন্ডা আমিন, তাহমিনা কোরাইশী, রোকেয়া ইসলাম প্রমুখের মত শত শত লেখক-কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-কলামিস্ট।

আমরা একটু পেছনে ফিরে গেলে দেখবো যে, 'বেগম'কে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে অনেক আগে থেকেই একটু একটু করে এগিয়ে যেতে হয়েছে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনকে। তিনি ১৯২৭ সালে মাসিক সওগাতে জানালা মহল নামে প্রথম নারীদের জন্য একটি বিভাগ চালু করলেও বাঙালি মুসলমান মেয়েরা বিভাগটি টিকিয়ে রাখতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখেননি। মেয়েদের এগিয়ে না আসার কারণে বাবা সিদ্ধান্ত নেন মেয়েদের লেখা দিয়ে বছরে একবার সওগাত-এর একটি সংখ্যা বের করবেন। এরই প্রেক্ষাপটে তিনি মেয়েদের ছবি দিয়ে ১৯২৯ সালে মহিলা সংখ্যা সওগাত প্রকাশ করেন। এই সংখ্যাটি বের করতে বাবা অন্দরমহলের নারীদের কাছ থেকে লেখা ও ছবি সংগ্রহ করেন। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সওগাত মহিলা সংখ্যা বছরে মাত্র একটি প্রকাশ করা হয়। এসব প্রকাশনার সঙ্গে আমি সবসময়ই বাবার পাশে থেকেছি। কবি সুফিয়া কামালও মহিলা সংখ্যা সওগাত এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

শৈশবে বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে তিনি লেখালেখি শুরু করেন, গড়ে তোলেন নিজের অনন্য জগৎ। যেখানে তিনি নিরন্তর এগিয়ে চলা কাব্য কিশোরী ছিলেন, ছিলেন নিবেদিত থাকা কালোহীন নতুন আলোর হাতছানি। তিনি নির্মল মন আর স্বচ্ছতার রাস্তায় অগ্রসর হয়ে এগিয়ে যেতে যেতে তৈরি হয়েছিলেন বলেই আজ যখন তিনি চলে গেলেন সবাইকে ছেড়ে, তখন তার কথাগুলো কানে এসে বাজছে বারবার। যে কথা তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন নিরলস সাংবাদিকতার সূত্র ধরে। বেগম-এর সম্পাদক দেশের নারী সাংবাদিকতা অন্যতম পথিকৃৎ নূরজাহান বেগম-এর ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলেবেলায় বাবা আমার জন্য নিয়ে আসতেন অনেক পত্রপত্রিকা। যদিও আমি তখন তেমন পড়তে শিখিনি। কিন্তু তবুও আগ্রহ ভরে পত্রপত্রিকাগুলো উল্টেপাল্টে দেখতাম। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনটি ছিল আমার খুবই প্রিয়। সেখানে মজার মজার ছবি, প্রজাপতি, ফুল আর নানা ধরনের জীবজন্তুর ছবির সঙ্গে পরিচিত হই। এভাবে ছবি দেখতে দেখতে পত্রপত্রিকা ফাইলিং করা শিখে ফেললাম। চকের গুঁড়ো ঘষে ঘষে বস্নক থেকে ছবি বের করে বাবার চাহিদা মতো তাঁর হাতে তুলে দিতাম। এভাবে শিশু বয়সেই আমি বাবা নাসিরউদ্দীনের কাছে সাংবাদিকতার প্রথম পাঠ নিই। এরপর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা শেষ হবার একবছর আগে ১৯৪৫ সালে বাবাকে সহযোগিতা করার জন্য সওগাত পত্রিকা অফিসে বসতে শুরু করি। পরীক্ষা শেষ হলে আমি সওগাত পত্রিকার সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হই। বাবা মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের উদ্যোগেই ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই প্রথম সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এর কার্যালয় ছিল আমাদের বাড়ির পাশে কলকাতার ১২ নম্বর ওয়েলেসলি স্ট্রিটের একটি বাড়িতে। বেগম-এর প্রধান সম্পাদক হন বেগম সুফিয়া কামাল এবং আমি ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব্ পালন করি। তবে কবি সুফিয়া কামাল প্রধান সম্পাদক হলেও আমিই বেগম-এর দেখাশুনা করতাম। বেগম পত্রিকায় যে মূল বিষয়গুলো স্থান পায় এসবের মধ্যে ছিল নারী জাগরণ, কুসংস্কার বিলোপ, গ্রামে-গঞ্জের নির্যাতিত নারীদের চিত্র, পরিবার পরিকল্পনা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের জীবনবোধ থেকে লেখা চিঠি এবং মণীষীদের জ্ঞানগর্ভ বাণী। সওগাত পত্রিকা অফিসে বসে আমি বেগম পত্রিকার কাজ করতাম। কবি বেগম সুফিয়া কামাল মাঝে মধ্যে বেগম পত্রিকা অফিসে এসে দু-একটা লেখা সংগ্রহ করে দিয়ে যেতেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো না থাকায় লেখা সংগ্রহ করাও ছিল খুবই কষ্টসাধ্য। ঘরে বসেই ফোনের মাধ্যমে লেখা সংগ্রহ করতে হতো। প্রথমে আমরা ভেবেছিলেম হিন্দু-মুসলমান লেখিকাদের মিলিত প্রয়াসে পত্রিকাটি চালাব। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হিন্দু লেখিকাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেই বেগম-এর প্রচ্ছদে নারীর ছবি ছাপা হবে। সেই মোতাবেক প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদে নারী মুক্তি আন্দোলনের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ছবি ছাপা হয়। আর এই শুরু হওয়া অবিরত এগিয়ে চলার কাজটিতে তিনি যখন এগিয়ে চলেছেন, তখন পুরুষরাও প্রকৃত অর্থে সাংবাদিকতায় আসেননি, সেসময় দাপটের সঙ্গে সাংবাদিকতা করেন 'বেগম' সম্পাদক নূরজাহান বেগম।

ইতিহাস সবসময় পরিচ্ছন্ন করে মানুষের স্বচ্ছ জীবনের কথা ঠিক এভাবে, 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অনুরোধে তার পরিচালিত সাখাওয়াত মেমোরিয়াল বিদ্যালয়ে নূরজাহান বেগমকে ভর্তি করান। তাই একেবারে সামনে থেকে দেখে বেগম রোকেয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নূরজাহান বেগম দীর্ঘ ছয় দশক ধরে নারী জাগরণের কাজ করেছেন। চাঁদপুরের চালিতা তলীতে ১৯২৫ সালের ৪ জুন নূরজাহান বেগম জন্মগ্রহণ করেন। নূরজাহান বেগমের মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। তিনি পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান ছিলেন। ছোট্ট সময় একদিন নূরজাহান বেগম খালের পানিতে পড়ে যান। তখন তাকে নিয়ে সবাই চিন্তায় পড়েন। তাই তাঁর পরিবার ১৯২৯ সালে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় চলে আসে। 'সওগাত' পত্রিকার দফতর ১১ নম্বর ওয়েলসলি স্ট্রিটের দোতলা বাড়িতেই তারা থাকতেন। এই অফিসেই নিয়মিত সাহিত্য মজলিস বসত। যেখানে কাজী নজরুল ইসলাম, খান মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ, আবুল কালাম শামসুদ্দিন, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, হাবীবুল্লাহ বাহার, ইব্রাহীম খাঁ, কাজী মোতাহার হোসেন, মোজাফ্ফর হোসেনসহ বহু বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব অংশ নিতেন। এই সাহিত্য মজলিসের নিয়মিত শ্রোতা হয়ে ওঠেন নূরজাহান বেগম নূরী। তারা তাকে নূরী বলেই ডাকতেন। এই ব্যক্তিবর্গ নূরীর মানস গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে পরিণত নূরজাহান বেগম বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করেন। চার কি সাড়ে চার বছর বয়সেই বেগম রোকেয়ার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল বিদ্যালয়ে নূরজাহান বেগমকে শিশু শ্রেণিতে ভর্তি করানোর পর থেকে খই ফোটে তার মুখে। অন্যদিকে বেগম রোকেয়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেয়ে শিক্ষার্থী জোগাড় করতেন। স্কুলে তার ভালো সময় কাটতো। কারণ একমাত্র সন্তান হওয়ায় বাড়িতে নূরজাহান বেগম নিঃসঙ্গ ছিলেন। তিনি জানান, বেগম রোকেয়া ক্লাস শুরু হওয়ার আগে সব শ্রেণীতে যেতেন এবং সবাইকে সুপ্রভাত জানাতেন। গান আবৃত্তি নাটক খেলাধুলার সাথে চলে সেলাই আর ঘরকন্নার কাজ শেখা। স্কুলে ভালো করতে পারলে 'গুড' বেশি ভালো হলে 'ভেরি গুড' শিশুদের ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করে বলে। পরে তিনি বেলতলা গার্লস হাইস্কুল পড়লেও ১৯৪২ সালে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। তারপর কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ণ কলেজে তিনি আই এ-তে ভর্তি হন। এখানে তার সহপাঠী ছিল সাবেরা আহসান ডলি, রোকেয়া রহমান কবির, কামেলা খান মজলিশ, হোসনে আরা রশীদ, হাজেরা মাহমুদ। পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি কলেজে ব্যাডমিন্টন খেলতেন। লেডি ব্রেবোর্ণ থেকে ১৯৪৪ সালে আইএ এবং ১৯৪৬ সালে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। কলেজে তারা স্টেজ নাটক করতেন। মুসলমান মেয়েরা নাটক করবে তা নিয়ে কিছু শঙ্কা থাকলেও নাটক মঞ্চস্থ হয় কলেজের মঞ্চেই। একেবারে ছেলেবেলা থেকে নূরজাহান বেগম বাবার সাথে পত্রিকায় কাজ করতেন। ছবি আঠা দিয়ে কাগজে লাগানো। বাছাই করা লেখাকে গুছিয়ে রাখার মধ্যদিয়েই তার কাজ শুরু হয়।

ইতিহাস আরো বলে যে, যখন বেগম পত্রিকার প্রকাশ হয়; তখন ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই মাস; দেশ ভাগ নিয়ে অবারিত কথা চলছে। সারাবিশ্বে ভারত-পাকিস্তান ভাগাভাগি নিয়ে গড়ে উঠেছে ছলচাতুরির খেলা। এ খেলার প্রতক্ষ্যদর্শী নূরজাহান বেগম মনের মাধুরি মিশিয়ে লিখেছেন নিবন্ধ-প্রবন্ধ-সংবাদ। আর তার সেই লেখায় অনুপ্রাণিত হতো শত শত নয়, হাজার হাজার নয়, লাখ লাখ নারী। সেই উৎসাহের সূত্র ধরে ঘরে ঘরে আজ নারী জাগরণের কথা শোনা যায়। বাসে সংরক্ষিত নারী আসন, নারীর সমমজুরি, নারীর সমঅধিকারের রাস্তা প্রশস্তকরণসহ অসংখ্য কাজে যার অবদান নিরন্তর; তিনি নূরজাহান বেগম। তিনি ৪৭-এর দেশভাগ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ অসংখ্য কাজের জ্বলন্ত প্রমাণ বহন করে করে অবশেষে ২২ মে চলে গেলেন নিজের ভুবনে। যেখানে 'বেগম'-এর প্রেস থাকবে না ঠিকই; তবে থাকবে তার অসংখ্য দেশ-সমাজ আর মানবতার পক্ষের কাজের রেশ। যে রেশ ধরে গড়ে উঠবে বাংলাদেশ। প্রত্যয়ে পথ চলতে চলতে তিনি যেমন খ্যাতিমান, তেমনি আমি তার দেখা পাওয়ার জন্য-কথা বলার জন্য ছিলাম চলমান। ২০০১ সাথে তার সাথে প্রথম দেখা আমার। দৈনিক খবরপত্রের নারী বিভাগের জন্য সাক্ষাৎকার আনতে গিয়েছিলাম। তিনি নির্বিকারভাবে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলেছিলেন, তুমি-ই মোমিন মেহেদী! সেই আশ্চর্যজনক কণ্ঠ যেন এখনো শুনতে পাই আমি। এর পর অনেক দিন গেছে, অনেকবার দেখা হয়েছে নারী সাংবাদিকতার এই অনন্যার সাথে। যতবার দেখেছেন, ততবার বলেছেন, শুধু লেখালেখি করো না, দেশের জন্য নিবেদিতও থেকো। আমি সত্যি-ই নিবেদিত আছি-থাকবো আজন্মকাল। ঠিক তেমনি করে, যেমনি করে রাত জেগে লেটারপ্রেসে কাজ করে সাজিয়েছেন অক্ষরের পর অক্ষর। সাজিয়েছেন লেখার পর লেখার বঙ্। 'বেগম'-এর জন্য প্রীতি তার যেমন ছিল, তেমনি প্রীতি ভালোবাসা কারো থাকবে বলে মনে হয় না। তাই বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানাবো বাংলাদেশের রাজনীতি-শিক্ষা-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কনিষ্ঠ-নগণ্য প্রতিনিধি হিসেবে- 'দয়া করে 'বেগম' কে জামাত-মহিলা জামাত বা ছাত্রী সংস্থার হাত থেকে রক্ষা করুন, পত্রিকাটিকে টিকিয়ে রাখতে তার কন্যাদ্বয়ের সম্মতিক্রমে সরকারি অর্থায়নে নিয়মিত প্রকাশের ব্যবস্থা করুন। তা না হলে ঐতিহ্য ধ্বংস হবে। যা আমাদের কারোই কাম্য নয়। পরিশেষে তার জন্য নতুন প্রজন্মের পক্ষ থেকে কয়েক পঙতি তুলে ধরছি-

আমাদের নারীদের-মানুষের মুক্তির জন্য

আপনি ছিলেন জানি সত্যি অনন্য

আপনার ফিরে আসা সম্ভব না হলেও হবে

আপনার মতো করে ঘরে ঘরে তবে

বিনম্র সাহসী সংবাদকর্মী ও কবি

আসবেই লিখবেই অন্যায় অপরাধ সবি

বলে যাবে নির্ভয়ে আগামীর কথা

আমরাও দিয়ে যাবো যেমন ও যথা...

Saturday, June 4, 2016

:: দৈনিক জনতা ::

:: দৈনিক জনতা ::

* নতুন ধারা বাংলাদেশ এনডিবি

বাজেটে শিক্ষাকে কোন গুরুত্ব না দিয়ে যোগাযোগ ও সেতুর মত বিষয়ের শেষে অবস্থান দেয়ার প্রতিবাদে আলোচনা সভা সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি'তে।

Tuesday, May 24, 2016

অপমান-খুনের রাজনীতি ও ধর্ম ব্যবসা

মোমিন মেহেদী
নারায়ণগঞ্জে ঘটে যাওয়া অঘটনের পর সংবাদ সম্মেলনে সেলিম ওসমান নির্লজ্জের মতো বলেছেন, ঘটনা ভুল বোঝাবুঝি, এমপি হয়ে আমি শুধু পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি। আবার পরক্ষণেই বলেছেন 'ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার ঘটনায় শিক্ষক শ্যামল নিজ ইচ্ছায় কান ধরে শাস্তি নিয়েছেন।

Sunday, May 22, 2016

টুডে ব্লগঃ ধর্ষণ নয় হোক বন্ধুতা তারুণ্যে...

টুডে ব্লগঃ ধর্ষণ নয় হোক বন্ধুতা তারুণ্যে...: ক্রমশ সাহস শক্তি হারায় দানবের দাপটে। ভেঙেচুরে একাকার স্বপ্নআকাশ।
নীলের বদলে আজ কালোর মিছিল। শাদার বদলে আজ ধূসর সকাল।
এভাবে বাংলাদেশ; এভাবে বর্তমান; আর

Wednesday, May 18, 2016

সাংবাদিকের সময় যেন থেমে না যায়...

:: দৈনিক জনতা ::

সাংবাদিকের সময় যেন থেমে না যায়...
মোমিন মেহেদী
'সময় টিভি'র মুন্না থামিয়ে দিলো আমার ঘড়ির সময়'। এভাবেই বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা ফেনী থেকে প্রকাশিত 'নির্ভীক' সম্পাদক জাফর সেলিম তার ফেসবুক টাইম লাইনে লিখেছেন, নিজের উপর হামলা আর ষড়যন্ত্রময় বর্তমানের কথা। যেখানে নিরন্তর সাহসের সাথে তিনি তুলে ধরেছেন- 'গতকাল রাতে ফেনী প্রেসক্লাবে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা চলাকালে সভাপতি রফিকুল ইসলামকে আক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে আমার বাঁ হাতে মুন্না ও সন্ত্রাসীদের উপুর্যপুরি অনেকগুলো আঘাত ঠেকাই। হাতের কব্জিতে প্রচ- ব্যথা পেলেও সহকর্মী রফিককে রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করি। কিন্তু সময় টিভির বখতেয়ার মুন্নার চেয়ারের সর্বশেষ একটি আঘাতে আমার প্রিয় হাত ঘড়ির গ্লাস চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে থেমে যায় ঘড়ির কাঁটা, থমকে যায় সময়। আমার কাছে মনে হয়েছিলো সত্যিকার অর্থেই সে মুহূর্তে কিছুক্ষণের জন্যে হলেও থেমে গিয়েছিলো ফেনীর সাংবাদিকতার ৫০ বছরের গৌরবোজ্জ্বল চলমান ইতিহাস! স্তব্দ হয়ে কিছু সময় থেমেছিলো ফেনী প্রেসক্লাবের মর্যাদার দেয়ালঘড়ির পেন্ডুলাম। প্রেসক্লাবে দানব সহকর্মীরা সন্ত্রাসী সহযোগে রফিকের শরীর থেকে রক্ত ঝরিয়ে প্রমাণ করেছে যে, আমরা যাদের বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবের মূলধারা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছি, প্রতিপক্ষ সে অংশটির প্রত্যেকের জন্ম নরপিশাচ রক্ত পিপাসু হায়েনার বীর্য থেকে। স্বাভাবিক কারণেই তারা চাইবে অনাহুত রক্ত ঝরাতে, অকারণে কলহ বাঁধিয়ে নিজেরা নিজেদের মাংস খেতে। এমন কি নিতে কেড়ে নিরীহের প্রাণ। ডারউইনের জঙ্গলতত্ত্বের পশুবাদে বিশ্বাসী কতিপয় সাংবাদিকরা থামিয়ে দিতে চায় আমাদের অনেকের হৃদ-স্পন্দন। তারই নীল-নকশায় মুন্না- জমির'রা বিপ্লবী রফিকের মাথায় কুপিয়ে তাকে হত্যার মাধ্যমে থামিয়ে দিতে চাইছে সাংবাদিকদের গণ-আন্দোলন। সবার কাছে প্রশ্ন রাখলাম, কি আমাদের অপরাধ? বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আগের রাতে এ ধরনের একটি জঘন্যতম সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে হবে এটি ভাবতেই পারছি না...

আজন্ম শুনে আসছি, 'সময় এবং স্রোত কেউ থামাতে পারে না'

তবে কি সময় টিভি'র মুন্না ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের জমিরেরা থামিয়ে দিতে পারবে তাদের দখল দারিত্বের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলনের চলতি সময়? কিংবা মজলুম সাংবাদিকদের সেস্নাগানমুখর চলমান দিন?

প্রশ্নবোধক কষ্টের রাজনীতি-শিক্ষা-সংবাদ-সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ প্রতিটি স্তরে চলছে ছলাকলার রাজত্ব। আর এই সুযোগে গড়ে উঠছে ছা পোষা সাংবাদিক-সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক দালালদের দৌরাত্ম্যময় বর্তমান। কিন্তু জনতা? জনতা তা চায় না; তারা চায় অবারিত সম্ভাবনার দেশে ফিরে আসুক কালোহীন আলোর দিন। গড়ে উঠুক কর্মঠ মানুষের রাজত্ব-দুর্নীতিমুক্ত বর্তমান-ভবিষ্যৎ। আর সেই প্রত্যয় থেকে বলতে চাই- আমরা আর কোনো প্রেসক্লাবে ক্ষমতার রাজত্ব চাই না। চাই না কোনো সাংবাদিক আরেক সাংবাদিকের ওপর চড়াও হোক। সাধারণ মানুষও সাবধান থাকবে সম্মান করবে বিনম্র ভালোবাসায়-শ্রদ্ধায়। যাতে করে পত্রিকার পাতায় আর পড়তে না হয়, 'সীতাকু-ে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের হাতে গুরুতর আহত হয়েছে সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম। পুলিশ রাতেই এক যুবলীগ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকু- প্রেসক্লাব থেকে নেমে কলেজ রোড মোড়ে আসার সাথে সাথে পূর্বে থেকে ওৎপেতে থাকা ১০/১২ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল তার উপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে অন্যান্য সাংবাদিকরা ছুটে আসে। এ সময় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক ফারুক ও দেলোয়ারকেও নাজেহাল করে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সীতাকু- স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা জানায় তার দুটি পা ভেঙ্গে গেছে। একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে এ হামলা হতে পারে বলে ধারণা করছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। সীতাকু- মডেল থানার ওসি ইফতেখার হোসেন জানান সাংবাদিকের উপর হামলা ঘটনায় আমির হোসেন নামের একজনকে রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।' এমন সংবাদ; বরং চাই প্রতিবাদ সভা নয়; সবার ঐক্য। যে ঐক্য ক্রমশ এগিয়ে যেতে যেতে উচ্চারণ করবে- 'সাংবাদিক জহিরুল ইসলামকে সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে আহত করায় সীতাকু- প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সীতাকু- প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ ফোরকান আবু, সেক্রেটারি মো. জাহাঙ্গীর আলম বিএসসি, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি সীতাকু- উপজেলা শাখার সেক্রেটারি কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকু- সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি খায়রুল ইসলাম, সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম ও প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক জহিরের উপর হামলাকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার পূর্বক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এদিকে জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক জহিরের উপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি'র সেক্রেটারি লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ।'

প্রতিবাদের রাস্তায় আমাদেরকে এগিয়ে যেতেই হবে বাংলাদেশকে-বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবেসে। এগিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশ-বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষার জন্য নিবেদিত থেকে। কেননা, সাংবাদিকদের উপর হামলা মানেই দেশের নীতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার উদাহরণ। এই উদাহরণ থেকে আমরা মুক্তি আনবোই; এগিয়ে যাবোই মা-মাটি-মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। এতে করে অন্তত গত ৭ বছরে যে ২৮ জন সাংবাদিক খুন হয়েছে, সেই ২৮ জনের জীবনের বিনিময় হলেও পরবর্তীতে আর কোনো হত্যার ঘটনা ঘটবে না। ঘটবে না কোনো হামলার ঘটনাও। ২০০৯ সালে খুন হয়েছেন ৩, ২০১০-এ ৪, ২০১১ সালে ১০, ২০১২ তে ৩, ২০১৩ তে ২, ২০১৪ তে ২, ২০১৫ তে ৪ এবং ২০১৬ এর মে পর্যন্ত ২ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। অতীতেও খুন হয়েছে সাংবাদিক। খুন করেছে ছাত্রশিবির-জামায়াত-বিএনপি'র নেতাকর্মীরা। তবে তার পরিমাণ কম ছিলো। এখন যে হারে খুন বাড়ছে-হামলা বাড়ছে-মামলা বাড়ছে; শঙ্কিত হয়ে উঠছি আমরা-কলম সৈনিকেরা। কেননা, নতুন নতুন খুনের নকশা সমস্যার জাল তৈরি করেই চলেছে।

বর্তমানে যে খুন চলছে, এরমধ্যে অধিকাংশ খুনই নির্মমতার রাস্তায় এগিয়ে যেতে যেতে নির্মিত হয়েছে। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য হলো- রাজাবাজারের বাসায় নির্মমভাবে খুনের শিকার হন সাগর-রুনী, ৭৭ নয়াপল্টনের বাসায় খুন হন প্রবীণ সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ ও তার স্ত্রী রহিমা খাঁ, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কুকরাইল এলাকায় গলা কেটে হত্যা করা হয় দৈনিক ভোরের ডাকের গোবিন্দগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ফরিদুল ইসলাম রঞ্জুকে, রাজধানীর উত্তরা ও চট্টগ্রামের পোর্টকলোনিতে খুন হয়েছেন ২ সাংবাদিক, পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যমতে, ৭ পোর্টকলোনি এলাকায় দৈনিক আজকের প্রত্যাশা, সাপ্তাহিক সংবাদচিত্র ও আজকের সূর্যোদয় পত্রিকার সাংবাদিক মাহবুব টুটুলকে হত্যা করা হয়েছে, একই দিন উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কে ১০ নম্বর বাসার বাসিন্দা সাপ্তাহিক বজ্রকণ্ঠের সাংবাদিক আলতাফ হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়, এর ১১ দিন আগে থেকে নিখোঁজ ছিলেন সাংবাদিক আলতাফ, গুপ্তহত্যার শিকার হন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার সিনিয়র ক্যামেরাম্যান শফিকুল ইসলাম টুটুল, যদিও পরবর্তী সময়ে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হয়েছেন, খুন হন বিশিষ্ট সাংবাদিক ফতেহ ওসমানী, সাপ্তাহিক ২০০০-এর সিলেট প্রতিনিধি ফতেহ ওসমানীকে ঐ বছর ১৮ এপ্রিল কুড়াল ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় তার মৃত্যু হয়েছে, প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হন বরিশালের মুলাদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মনির হোসেন রাঢ়ী, এনটিভির ভিডিও এডিটর আতিকুল ইসলাম আতিক, জুলাই মাসে ঢাকার পাক্ষিক মুক্তমনের স্টাফ রিপোর্টার নুরুল ইসলাম ওরফে রানা, গাজীপুরে ঢাকার সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক সময়-এর নির্বাহী সম্পাদক এমএম আহসান হাবিব বারী, রূপগঞ্জে দৈনিক ইনকিলাব সংবাদদাতা ও রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি আবুল হাসান আসিফ খুন হন, সর্বশেষ আলোচিত খুনের ঘটনাটি হলো সাংবাদিক ও সম্পাদক জুলহাস ও তনয় হত্যাকা-। কে সমকামী আর কে দুর্নীতিবাজ সাংবাদিক, তা বিবেচনা করে সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী হত্যা করতে থাকলে তো দেশে সাংবাদিক-ই আর খুঁজে পাওয়া যাবে না, খুঁজে পাওয়া যাবে না আর একজন বুদ্ধিজীবীও। যা আমাদের কারোই কাম্য নয়; কাম্য হতে পারে না। আর তাই চাই অতিতের সকল অন্যায়কে-কালোকে আলোর ইশারায় ঝকঝকে তকতকে করে এগিয়ে আসুক সবাই। সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী-জামায়াত-শিবির-জঙ্গীদেরকে প্রতিহত করার পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করি সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীগণকে। যাদের বুদ্ধিদ্বীপ্ত আগামী-ই গড়ে দেবে বাংলাদেশ- সোনার বাংলাদেশ-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আর একারণেই ঐক্যবদ্ধতা চাই, বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি চাই-সহযোগিতা চাই। যে সহযোগিতায় আগামী হবে সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ। নির্মিত হবে বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে অনলাইন প্রেস ইউনিটির মতো তারুণ্যময় অবারিত সম্ভাবনার ঠাঁই। যদিও বলা হয়ে থাকে

'আওয়ামী লীগের শাসনামলে সাংবাদিক নির্যাতন ও খুন নতুন কিছু নয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১০ সাংবাদিক খুন হয়েছেন। বহু সাংবাদিক হামলা ও নির্যাতনের শিকার হন। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বাকশাল কায়েমের সময় চারটি সংবাদপত্র ছাড়া সব পত্রিকা বন্ধ করায় হাজার হাজার সাংবাদিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।'

সত্য হোক অথবা মিথ্যে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করবেন নিজের কাজের মধ্য দিয়ে। তিনি এবং তার তথ্যমন্ত্রী যদি সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ চান, যদি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চান, যদি নদীর মতো অবিরত বয়ে যেতে চান ক্ষমতার হাল ধরে, তাহলে সবার আগে প্রায় ১৭ হাজার অনলাইন সংবাদকর্মীর সংগঠন অনলাইন প্রেস ইউনিটিকে দেবেন সবর্োচ্চ সহযোগিতা, অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোকে যোগ্যতার বিবেচনায় দেবেন নিবেদিত থেকে এগিয়ে চলার জন্য অনুদান ও শিল্প ঋণ। এমন প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই যে, যখন যা কিছুই হোক/ সবাই শান্তির পক্ষের লোক।

মোমিন মেহেদী : সাংবাদিক